রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

ট্রাম্প প্রশাসন

সংবাদ মাধ্যমের ওপর খুশি নয় ট্রাম্প প্রশাসন। বরং বলা যায় রেগেই আছেন। সেই রাগের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটলো গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার। ট্রাম্পের সমালোচনা করে থাকে এমন প্রভাবশালী বেশ কয়েকটি দেশী-বিদেশী সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের ওইদিন হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং-এ ঢুকতে দেয়নি তারা। সাংবাদিকরা একে ‘ভয়ানক’ এবং ‘মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন’ ঘটনা উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বেছে বেছে কিছু গণমাধ্যম কর্মীকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে না দেয়ার এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়াশিংটনে রক্ষণশীল রাজনীতিকদের এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদ মাধ্যমকে আবারো ‘অসৎ’ ও ‘গণশত্রু’ বলে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে বলেন, তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীকে দেশের এ যাবতকালের সবচেয়ে শক্তিধর ‘আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক’ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলবেন। এর জন্য তহবিল সরবরাহে কোনরকম আপোস করা হবে না।
হোয়াইট হাউসে ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের ঢুকতে বাধা দেয়ার বিষয়টিকে নজিরবিহীন আচরণ বলে উল্লেখ করেছেন সাংবাদিকরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তো সংবাদ মাধ্যমকে ‘অসৎ’ ও ‘গণশত্রু’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। প্রেসিডেন্টের এমন মনোভাবের প্রতিফলনই কি হোয়াইট হাউসে ঘটলো? ট্রাম্প সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এতটা ক্ষিপ্ত হয়ে আছেন কেন? সাংবাদিকরা তার সমালোচনা করেন সেটাই কি মূল কারণ? তাঁর এমন মনোভাবের কারণে প্রশ্ন জাগে, তিনি কি সাংবাদিকদের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত নন? অথচ সব দেশের শিক্ষিত মানুষ মাত্রই জানেন যে, স্ট্যাবলিশমেন্ট তথা সরকারের সমালোচনা করা সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব। কারণ সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে সরকারের বেপরোয়া তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে যেমন সহযোগিতা করা যায়, তেমনি এর মাধ্যমে দেশ ও জনগণের স্বার্থও রক্ষিত হয়। ফলে গণতন্ত্রমনা যে কোন প্রেসিডেন্ট সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেন এবং সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক তৎপরতা থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ট্রাম্প প্রশাসন গণতান্ত্রিক ধারার বিপরীতে অবস্থান করছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হবে এমন একটি নিয়মিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসারের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়ার কথা ছিল সেখানে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সেটিকে ক্যামেরাবিহীন ব্রিফিং হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেখানে সিএনএন, বিবিসি, গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক টাইমস, লসএঞ্জেলেস টাইমস ও পলিটিকোর কোন সাংবাদিক ঢুকতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে এপি, টাইমস ম্যাগাজিন ও ইউএসএ টুডের সাংবাদিকরা ব্রিফিং বয়কট করে সেখান থেকে চলে যান। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংবাদিকদের কেন ঢুকতে দেয়া হলো না- এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জন্য তথ্য কেন্দ্র আছে। সেখান থেকে যে কোন প্রতিবেদক হালনাগাদ সংবাদ পেতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সিনিয়র সাংবাদিকরা। সিএনএন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের এই আচরণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। বোঝা যাচ্ছে আপনি তাদের অপছন্দের প্রতিবেদন করলেই তারা এভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তবে আমরা প্রতিবেদন প্রকাশে অনড় থাকবো।’ সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের নজিরবিহীন আচরণে শুধু আমেরিকার সাংবাদিক সমাজ নয়, সমগ্র বিশ্বের সাংবাদিক সমাজ বিস্মিত। কোন বিবেকবান মানুষই ট্রাম্প প্রশাসনের এমন দাম্ভিক ও স্বৈরাচারী মনোভাবকে সমর্থন করতে পারে না। ঔদ্ধত্য দিয়ে কি কোন সংকটের সমাধান করা যায়? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে তারা ভাবলে ভাল করবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ